বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন
মেসির গোল, তবুও ইতিহাসের লজ্জার হার মায়ামির!
অনলাইন ডেস্ক
নতুন সিজনের শুরুতেই উত্তেজনার পারদ চড়ানো বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে হঠাৎই ঘটল রোমাঞ্চকর অঘটন! লিওনেল মেসি গোল করেও বাঁচাতে পারলেন না ইন্টার মায়ামিকে। হাভিয়ের মাশ্চেরানোর বিতর্কিত কৌশলে মিনেসোটা ইউনাইটেডের কাছে ৪-১ ব্যবধানে লজ্জাজনকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে ‘হেরনস’রা—মেসির যুগে যা ক্লাবটির সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়!
ব্যক্তিগত সমস্যায় খেলতে পারেননি মেসির আস্থাভাজন লুইস সুয়ারেজ। তার অভাবটা যেন জ্বলজ্বল করে ফুটে উঠেছে মাঠজুড়ে। প্রথমার্ধেই রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য ছিল মিনেসোটা। গোল করেন অ্যান্থনি মার্কানিচ ও বঙোকুহলে হ্লোংওয়ানে, আর মায়ামি খুঁজে ফিরল নিজেদের ছায়া।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একটি আশার আলো হয়ে জ্বলে উঠলেন লিওনেল মেসি। দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে ব্যবধান কমান ২-১-এ। মুহূর্তেই গ্যালারিতে ফিরে আসে উল্লাস। মনে হচ্ছিল, হয়তো এবার মেসির পায়ের জাদুতে ঘটবে রূপকথা। কিন্তু রূপকথা নয়, মাঠে দেখা গেল করুণ বাস্তবতা।
৬৮তম মিনিটে ডিফেন্ডার মার্সেলো ওয়েইগানডট হতভাগ্য আত্মঘাতী গোল করে মিনেসোটাকে ফের উৎসবের উপলক্ষ এনে দেন। এরপরই ফিনল্যান্ডের রবার্ট লড ঝড়ের গতিতে গোল করে মায়ামির কফিনে পেরেক ঠুকে দেন, গ্যালারির আশা-আনন্দ নিমেষে মিলিয়ে যায়।
মাশ্চেরানো পরপর চারটি পরিবর্তন করেও কোনো জাদু দেখাতে পারেননি। মিনেসোটা যেন মাঠে ছিল যুদ্ধজয়ের মিশনে, আর মায়ামি নিছক দর্শক! পুরো ম্যাচজুড়ে একতরফা দাপট দেখিয়েছে মিনেসোটা, আর মায়ামি খুঁজে ফিরেছে নিজেদের অস্তিত্ব।
ম্যাচশেষে গণমাধ্যমের সামনে মাশ্চেরানো দাবি করলেন, ‘আমরা এতটা খারাপ খেলিনি।’ কিন্তু স্কোরলাইন ও মাঠের দৃশ্যপট তাকে তীব্রভাবে মিথ্যা প্রমাণ করেছে। মায়ামির খেলা ছিল ছন্নছাড়া, পরিকল্পনাহীন আর আত্মবিশ্বাসশূন্য। ছিল না কোনো তাড়না বা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার স্পৃহা।
এই পরাজয়ে চলতি মৌসুমে শেষ পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চারটিতেই হার দেখল মায়ামি। ২০২৩ সালে মেসির যোগদানের পর এটিই তাদের সবচেয়ে অপমানজনক হার। এর আগে সবচেয়ে বড় হার ছিল ২০২৪ সালের মে মাসে আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে।